বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস
শিক্ষা, ইমিগ্রেশন ও চাকরির জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে বিশ্বের ছয় হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান আইইএলটিএস ব্যবহার করে থাকে। যুক্তরাজ্যে সমপ্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পয়েন্টস বেজড সিস্টেমের টিয়ার-৪-এর অধীনে চালু করা হয়েছে নতুন ইমিগ্রেশন আইন। এর ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার জন্য এখন আইইএলটিএসের আর প্রয়োজন নেই। বিষয়টি ঠিক নয়। বিস্তারিত বলেছেন ব্রিটিশ কাউন্সিল, বাংলাদেশের কান্ট্রি এক্সামিনেশনস ম্যানেজার পিটার এসটন
আইইএলটিএস পরীক্ষা পরিচালনা: আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ইউনিভার্সিটি অব কেমব্র্রিজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি অস্ট্রেলিয়া। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র নিরীক্ষণ করে থাকে ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ। আর পরীক্ষাটিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালনা করা ও ছড়িয়ে দেওয়ায় ভূমিকা রাখে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি অস্ট্রেলিয়া।
পরীক্ষার্থীদের ভুল ধারণা: আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অনেক পরীক্ষার্থীই মনে করেন যে ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত পরীক্ষায় বেশি কড়াকড়ি করা হয়ে থাকে। এটি ভুল ধারণা। বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা একই মান ও পরিবেশ নিয়ে পরিচালিত হয়। স্থানভেদে এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটে না, সেটা বাংলাদেশ, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে দেশেই অনুষ্ঠিত হোক না কেন।
বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির কারণ: ২০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে আইইএলটিএস। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইংরেজির দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পরীক্ষার মানের ব্যাপারে সন্তুষ্ট। যেভাবে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় তাতে পরীক্ষাটির মানের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় নিশ্চিতভাবে। তাই যাঁরা উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যান শুধু তাঁদের জন্যই নয়, ইমিগ্রেশনের জন্যও এখন আইইএলটিএস পৃথিবীর অনেক দেশের বহু প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বীকৃত। ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ইমিগ্রেশনে এবং পেশাগত স্বীকৃতির ক্ষেত্রে আইইএলটিএস এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
পয়েন্টস বেজড সিস্টেমের টিয়ার ৪: যুক্তরাজ্যে সমপ্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পয়েন্টস বেজড সিস্টেমের টিয়ার ৪-এর অধীনে নতুন ইমিগ্রেশন আইন চালু করা হয়েছে। এই সিস্টেম চালুর ফলে অনেকেই মনে করছেন যে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএসের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ব্যাপারটি তা নয়। মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলে পড়তে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে তাঁর আইইএলটিএসের স্কোর দেখাতে হবে। আর উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর পড়তে গেলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী আইইএলটিএস স্কোর দেখাতে হতে পারে। তাঁরা আইইএলটিএস না চাইলে সেখানে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী কোনো ইংরেজি কোর্স বা আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগেই আইইএলটিএস করা ভালো। যুক্তরাজ্যে গিয়ে কোনো ইংরেজি কোর্স বা আইইএলটিএস করা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তা ছাড়া যুক্তরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেসব শিক্ষার্থীকে অফার লেটার ইস্যু করে, তাঁদের ইংরেজির যোগ্যতার ব্যাপারে ইউকে বর্ডার এজেন্সির কাছে সন্তোষজনক উত্তর দিতে হয়।
প্রশিক্ষণ: যদিও আইইএলটিএস টুইশন প্রোভাইডারদের ব্রিটিশ কাউন্সিল সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, তবুও এসবটুইশন প্রোভাইডারকে প্রশিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল সমপ্রতি ঢাকায় লিসনিং, স্পিকিং, রিডিং ও রাইটিং এই চারটি দক্ষতার প্রতিটির কর্মশালার আয়োজন করে। এই জাতীয় প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও পরিচালিত হবে এবং চট্টগ্রামেও আয়োজন করা হবে। তা ছাড়া যেসব পরীক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষার জন্য রেজিস্টার করে থাকেন, তাঁদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল বিনামূল্যে একদিনের কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে এবং পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দেওয়া হয় দুটি সহায়ক বই।
নতুন সুযোগ-সুবিধা: সমপ্রতি ব্রিটিশ কাউন্সিল, চট্টগ্রাম তাদের নিজস্ব সেন্টার নম্বর BD 400 অর্জন করেছে। এর ফলে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো আরও সহজ ও দ্রুত হবে। তা ছাড়া এই সেন্টারে আইইএলটিএস পরীক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশব্যাপী অনলাইন রেজিস্ট্রেশনও চালু করা হবে।


