যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে আবেদনের নতুন নিয়ম
সম্প্রতি ইউকে হোম অফিস তাদের ভিসা আবেদনে পরিবর্তন এনেছে। অতীতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ৮০টিরও বেশি রুট ছিল; কিন্তু সম্প্রতি এগুলোকে একসঙ্গে করে ৫টি টিয়ারসের আওতায় এনে পয়েন্টভিত্তিক ভিসা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এটি ৫টি টিয়ারস নিয়ে গঠিত। টিয়ার-১: হাইলি স্কিলড ওয়ার্কার্স যেমন সায়েন্টিস্ট, এন্টারপ্রিনার। টিয়ার-২: স্কিলড ওয়ার্কার্স যাদের জব অফার পাচ্ছে। টিয়ার-৩: লো-স্কিলড ওয়ার্কার্স যারা নির্দিষ্ট লেবার সর্টেজ ক্যাটাগরিতে সাময়িকভাবে আবেদন করবে। টিয়ার-৪: স্টুডেন্টদের জন্য। টিয়ার-৫: ইয়ুথ মোবিলিটি যেমন কোনো সঙ্গীতশিল্পী ইংল্যান্ডে কোনো কনসার্টে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।
গত এপ্রিল থেকে ইউকে বর্ডার এজেন্সি নতুন এ নিয়ম চালু করেছে। নতুন এ পয়েন্টভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মোট ৪০ পয়েন্ট পেতে হবে। এর মধ্যে ৩০ পয়েন্ট হচ্ছে শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের যে প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন তার মানের ওপর নির্ভর করবে। অবশিষ্ট ১০ পয়েন্ট যুক্ত হবে আবেদনকারী এক বছরের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ চালাতে পারবেন, এর প্রমাণ দেওয়া হলে। নতুন নিয়মের সুবিধা হলো আগের মতো শিক্ষার্থীকে কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী ২-৩ বছরের টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বাবদ ৩০-৩৫ লাখ টাকা দেখাতে হবে না, যা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্টুডেন্টের জন্য খুবই দুঃসাধ্য ছিল। এছাড়া স্পন্সরের সঙ্গে স্টুডেন্টের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হতো; কিন্তু এখন থেকে স্টুডেন্টকে তার নিজ নামে অথবা যৌথ একাউন্টে ১ বছরের থাকা-খাওয়ার খরচ ভিএফএসে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ২-১ দিন আগে থেকে দেখালেই চলবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পছন্দকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যদি লন্ডন শহরের মধ্যে হয় তাহলে ৮-৯ লাখ টাকা এবং লন্ডন শহরের বাইরে হলে ৬-৭ লাখ টাকা দেখাতে হবে।
নতুন নিয়মের আরেকটি ভালো দিক হলো, আইইএলটিএসের বাধ্যবাধকতা না থাকা। ইউকেবিএ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভালো কোন কলেজ যদি শিক্ষার্থীকে অফার লেটার ইস্যু করে তাহলে এখন থেকে হাইকমিশন আর আইইএলটিএসের কারণে কাউকে ভিসা রিফিউজ করবে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা কী হবে না হবে তা যুক্তরাজ্যে যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন তারাই নির্ধারণ করবে।
একজন শিক্ষার্থীকে এখন থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করার জন্য নতুন ভিসা আবেদনপত্র পয়েন্ট বেইজড ভিসা সিস্টেম (ভিএএফ, ৯ এপ্রিল-২০০৯), এপেনডিক্স ৪ : টিয়ার-৪ (জেনারেল স্টুডেন্ট) এবং পয়েন্ট বেইজড ভিসা সিস্টেম ফর্ম (ভিএএফ, ৯ এপ্রিল-২০০৯) পারসোনাল ডিটেলসে আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে।
Last Updated ( Saturday, 05 September 2009 11:45 )


