মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর হবে তিন ধারায় সাধারণ মাদ্রাসা ও বৃত্তিমূলক
মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। দ্বাদশ শ্রেণী শেষে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে। মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর হবে তিন ধারায় সাধারণ, মাদ্রাসা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। দশম শ্রেণী শেষে সমাপনী পরীক্ষা উপজেলা-পৌরসভা-থানা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেয়া হবে। শিক্ষানীতি খসড়ায় দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এ সুপারিশ করেছে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে বর্তমানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পরিবর্তে নতুন শিক্ষা কাঠামোয় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর করার কথা বলা হয়েছে। এ স্তরের শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন ধারায় যাবে, নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভিত্তিতে বা আরো বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে। মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে তিনটি ধারা থাকবেÑ সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা। প্রতিটি ধারা কয়েকটি শাখায় বিভক্ত থাকবে। সব ধারাতেই মৌলিক বিষয় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ স্টাডিজ ও সাধারণ গণিতের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি বাধ্যতামূলক থাকবে। প্রত্যেক ধারায় এসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে ইবতেদায়ি শেষ করে যে কোনো ধারায় নবম শ্রেণীতে এবং আলিম পর্যায় শেষ করে ডিগ্রি পর্যায়ে ভর্তি হওয়া যাবে।
বর্তমান উচ্চ বিদ্যালয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী সংযোজন করতে হবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে নবম ও দশম শ্রেণী খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। উচ্চ বিদ্যালয়ে উচ্চতর শ্রেণীতে পড়ানোর জন্য ইংরেজিসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত পর্যায়ক্রমে ৬-৭ বছরের মধ্যে ১:৩০-এ উন্নীত করতে হবে। সরকারি কর্মকমিশনের অনুরূপ প্রস্তাবিত বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন ও উন্নয়ন কমিশন যথাযথ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক প্রতি বছর নির্বাচন করবে। নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। দশম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি দেয়া হবে। দ্বাদশ শ্রেণী শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা হবে। পাবলিক পরীক্ষার নাম হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং গ্রেডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে। ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেয়া হবে। ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হবে। ইংরেজি মাধ্যমের এ শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠক্রম, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন যেহেতু একটি বিদেশি ধারায় হয় সেখানে সরকারি অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা পরিচালিত হবে। ‘ও’ লেভেলকে দশম শ্রেণী এবং ‘এ’ লেভেলকে দ্বাদশ শ্রেণীর সমকক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সুত্র : যায়যায়দিন


